মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুঘল আমলের শের শাহ্‌ সড়ক বৃটিশ শাসনামলে গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড

শের শাহ্‌ ছিলেন ভারতবর্ষের সম্রাট ও শুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৫৩৭ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের সেনানায়ক হিসেবে শের শাহ্‌ বাংলা জয় করেন। ১৫৪০ সালে এ অঞ্চলে তিনি শুরি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনামলে তৈরি হয়েছিল একটি সড়ক, যা গঙ্গার মুখ থেকে সাম্রাজ্যের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত পযর্ন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৫৪১ থেকে ১৫৪৫ সালের শাসনামলে শের শাহ্‌’র তত্ত্বাবধানে এই প্রাচীন সড়কটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে “ সড়ক এ আজম ” নামকরণ করেন। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম থেকে সোনারগাঁও হয়ে যশোর জেলার উপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, দিল্লী ও পাকিস্তানের পেশোয়ারের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের কাবুল পযর্ন্ত বিস্তৃত ছিল। শের শাহ্‌’র তত্ত্বাবধানে আধুনিকায়নকৃত মোট ২৫শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি উপমহাদেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করেছে। শের শাহ্‌’র আমল থেকে এ সড়কটি মূল সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ দীর্ঘ  সড়ক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক কাজে গতি সৃষ্টি করা। প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিক সামনে রেখে সমগ্র সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি বিধানও এর লক্ষ্য ছিল। এ সড়কের মাধ্যমে রাজধানী আগ্রার সঙ্গে সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে যুক্ত করা হয়েছিল। মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণপশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সামরিক সুবিধার পাশাপাশি বাণিজ্যিক উন্নতি, ডাক-যোগাযোগে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সে সঙ্গে কঠোর গুপ্তচর প্রথার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের তথ্যাদি সংগ্রহ করাও সুলতানের উদ্দেশ্য ছিল। আরোও কিছু কর্মতৎপরতা যেমন- সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াত সুবিধা প্রদান, জনসাধারণের বিশ্রামের জন্য রাস্তার উভয়পাশে দু’ক্রোশ অন্তর অন্তর বিশ্রামাগার ও সরাইখানা নির্মাণ এবং রাস্তার পাশে ছায়াদানকারী বৃক্ষরোপণ করা।

          বৃটিশ শাসনামলে সৈন্য চলাচলের সুবিধা এবং ডাক বিভাগের উন্নতির উদ্দেশ্যে সড়কটির সংস্কার করে কলকাতা থেকে পেশোয়ার পযর্ন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। এ সময়ই সড়কটির নাম দেওয়া হয় “ গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোড”। বৃটিশ শাসনামলের আগে তৎকালীন শাসকেরা এ সড়কটির বিভিন্ন নাম যেমন- শাহ রাহে আজম, সড়কে আজম, বাদশাহি সড়ক ও উত্তর পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

বর্তমানে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা হয়ে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শরুশুনা, শতপাড়া, দেশমুখপাড়া ও বুনাগাতী গ্রামের মধ্য দিয়ে মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়ন হয়ে ফরিদপুরের মধ্য দিয়ে ঢাকার সোনারগাঁও পযর্ন্ত বিস্তৃত। এই সড়কটি এখন আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে শের শাহ্‌’র নির্মিত সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

         

ছবি